রাশিয়া
প্রথম সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পাদনকারী দেশ—রাশিয়া পৃথিবীর মানুষের দীর্ঘ পথ চলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ১৯১৭ সালে যুগ যুগ ধরে শোষিত, বঞ্চিত, খেটে-খাওয়া মানুষ—রাশিয়ার শ্রমিক-কৃষকেরা ক্ষমতা দখল করে শোষণমুক্ত নতুন সমাজ—সমাজতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে অগ্রসর হওয়ার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষের সামনে আলোকোজ্জল পথরেখা তুলে ধরেছে। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দেশ এশিয়া-ইউরোপের বিশাল অঞ্চল, সাবেক পরাক্রমশালী রুশ সাম্রাজ্য পরিণত হয় শ্রমিক-কৃষকের মুক্তির কাফেলার বিপ্লবী ভূমিতে। এই বিপ্লবী পথরেখা সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে।
সামন্তবাদ থেকে পুঁজিবাদ
পূর্ব শ্লাভদের প্রাচীনভূমি রাশিয়ার অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের অন্যতম মস্কোভি রাজ্যের রাজাদের (জার) প্রচেষ্টায় কালক্রমে ঐক্যবদ্ধ হয়। এর মধ্য দিয়ে তাতারদের খবরদারি লোপ পায় এবং জারতন্ত্রের ছত্রছায়ায় সামন্তবাদ শক্ত খুটির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। জার পরিবারই ছিল সেদেশের শ্রেষ্ঠ সামন্ত প্রভু।
সামন্তবাদের শৃঙ্খলে সংখ্যাগুরু ব্যাপক মানুষের জীবন ছিল গরু-ছাগলের মতো, ভূমিদাসের জীবন। মুষ্টিমেয় ভূস্বামী-জমিদারই ছিল সকল প্রকার বিলাস-ব্যসন আর ভোগের মালিক। এই নির্যাতিত মানুষগুলোর আইনত মুক্তি মিলে ১৮৬১ সালে। সে বছর জারের ফরমানে ভূমিদাস প্রথা রহিত করা হয় ব্যাপক কৃষক বিদ্রোহ এড়ানোর জন্য ও পুঁজিবাদী বিকাশের সূচনা ঘটানোর তাগিদে। কিন্তু ভূমিদাসদের প্রকৃত মুক্তি এতে আসেনা, কৃষকের নতুন জীবনে নামমাত্র স্বাধীনতা আসে এবং আক্রান্ত হয় বহুমুখী জটিল সমস্যা-সংকটে।
ঊনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই রাশিয়ায় পুঁজিবাদ যাত্রা শুরু করে ও শিল্পায়ন শুরু হয়। সাথে সাথে নতুন দুই শ্রেণী: বুর্জোয়া ও শ্রমিক শ্রেণীর আবির্ভাব ঘটে। ব্যবসায়ী ও উদীয়মান বুর্জোয়ারা দেশে পুঁজিবাদী পথে শিল্পায়ন চাইতো এবং গ্রামের ধনী কৃষকরা চাইতো কৃষিতে ধনবাদী বিকাশ। জারের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসীন অভিজাত সামন্তদের সাথে এদের আপেক্ষিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলেও ব্যাপক শ্রমিক ও কৃষককে দমন করার সময় এরা হয়ে যেতো ঐক্যবদ্ধ।
বিশ শতকের শুরু থেকে রাশিয়ায় পুঁজিবাদী বিকাশ দ্রুততর হয়। সাথে সাথে ঘটে শ্রমিকের কেন্দ্রীভবন। নতুন পটভূমিতে রাজনৈতিক অঙ্গনেও দেখা দেয় বিভিন্ন স্রোতধারার আনাগোনা।
রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
জারের পুলিশ বাহিনীর চোখে রাজনীতি মানেই ছিল দেশদ্রোহিতা। যারা রাজনীতির কথা ভাবতেন বা রাজনীতি সম্পর্কে কিছু বলতেন তাদেরকেই চিহ্নিত করা হতো ‘বিদ্রোহী’ বা ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে। এই পরিস্থিতিতেই ধীরে ধীরে রাশিয়ায় রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৮৫০ সালের দিকে বিপ্লবী গণতন্ত্রীদের উদ্ভব হয়, তারা পুঁজিবাদ এড়িয়ে সমাজতন্ত্র কায়েমের কথা বলতেন। ১৮৭৫ সালে একদল ছাত্রের গোপন উদ্যোগে গঠিত হয় ‘জেমলিয়া-ই-ভালিয়া’। কৃষকদের সশস্ত্র বিদ্রোহে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। এরা পরিচিত হয় ‘নারোদনিক’ হিসেবে। পরবর্তীতে এদের বড় অংশের উদ্যোগে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ‘নারোদ-নিয়া ভালিয়া’ গঠিত হয়। কিন্তু সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে এদের অনেকেই হতাশ হন, নতুন করে পথ সন্ধান করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত এদের একটি গোষ্ঠী মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গঠন করেন ‘শ্রমিক মুক্তি গোষ্ঠী’। এদের নেতা ছিলেন প্লেখানভ।
উনিশ শতকের শেষ দিকে মার্কসবাদ চর্চার জন্য অনেকগুলো গোপন পাঠচক্র গড়ে ওঠে এবং কল-কারখানায় কিছু শ্রমিক আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। ১৮৯৫ সালে লেনিনের নেতৃত্বে সেন্ট পিটার্সবুর্গে বিশ থেকে ত্রিশটি পাঠচক্র মিলিত হয়ে গঠিত হয় মার্কসবাদী সংগঠন 'লীগ অব স্ট্রাগল ফর দি ইমানসিপেশন অব দি ওয়াকিং ক্লাস'। গঠনের পর পরই এই সংগঠন মস্কো সহ কয়েকটি শহরের পাঠচক্রের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং অনেকগুলো কল-কারখানার শ্রমিকদের সাথে যোগসূত্র রচনা করে। লীগের একটি অনিয়মিত মুখপত্রও প্রকাশিত হয়। লীগের উদ্যোগে গঠনের বছরে সেন্ট পিটার্সবুর্গে ১৫টি শ্রমিক আন্দোলন হয় যার ১টিতে শ্রমিকরা বিজয়ী হয়। ধর্মঘটের সময়ে মার্কসবাদীদের সাথে শ্রমিকদের সম্পর্ক নিবিড়তর হয়। পরের বছর আবার শ্রমিক ধর্মঘট হয় এবং . শ্রমিকদের দাবির কাছে সরকার মাথা নত করতে বাধ্য
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments